হলুদ-দুধ রক্ত পরিশোধন এবং পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ছবি : আরকেনাস কিচেন
আপনি কি জানেন এক গ্লাস হলুদমিশ্রিত গরম দুধ স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী? দীর্ঘকাল ধরে হলুদ-দুধ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ঘরোয়া দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দ্য হেলথ সাইট ডটকম জানিয়েছে হলুদমিশ্রিত দুধের উপকারিতার কথা।
কফ এবং ঠান্ডা দূর করে
হলুদ-দুধ কফ এবং গলার প্রদাহ দূর করার জন্য একটি উপকারী ঘরোয়া দাওয়াই। হলুদের অ্যান্টিসেপটিক এবং এসট্রিজেন্ট উপাদান দুধের সঙ্গে মিলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এবং শুষ্ক কফ দূর করে।
মাথাব্যথা
হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান দুধের পুষ্টির সঙ্গে মিশে প্রাকৃতিক অ্যাসপেরিনের কাজ করে, যা মাথাব্যথা রোধে বেশ কার্যকরী। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা রোধেও এই দুধ উপকারী।
হেপাটাইটিস ভাইরাস প্রতিরোধ করে
হলুদে কারকুমিনের উপস্থিতির জন্য হলুদ-দুধে অ্যান্টিভাইরাল উপাদান থাকে। এটা ভাইরাস প্রতিরোধ করে এবং এর বৃদ্ধিও প্রতিরোধ করে। হলুদ-দুধ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।
ভালো ঘুমের জন্য
আপনার কি দিনে-রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমাতে কষ্ট হয়? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে এক গ্লাস হলুদ-দুধ পান করুন। দুধে রয়েছে সেরোটোনিন (মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থ) এবং মেলাটোনিন, যেটা হলুদের বিভিন্ন পুষ্টিগুণের সঙ্গে মিশে চাপ দূর করে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে।
আরথ্রাইটিস প্রতিরোধে
হলুদ-দুধে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি উপাদান, যা গাঁট বা গেরোর শক্তি বাড়ায়। এ ছাড়া ব্যথা দূর করে আরথ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর পেশির নমনীয়তা বাড়ায়।
রক্ত পরিশোধন করে
হলুদ-দুধ রক্ত পরিশোধিত এবং পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এর পুষ্টি রক্তে সঞ্চালন ভালো করে। হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহের লিমপ্যাথিক পদ্ধতি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ঋতুস্রাবের ব্যথা দূর করে
ঋতুস্রাবের সময় অনেক ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাতে বাধা তৈরি হয়। এটি একটি প্রচলিত সমস্যা। নিয়মিত হলুদ-দুধ খেলে এই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টিসপ্যাসমোডিক উপাদান রয়েছে, যা ঋতুস্রাবের ব্যথা দূর করে। রক্তপাতের বাধাকে দূর করে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।
কীভাবে তৈরি করবেন হলুদ-দুধ
এক গ্লাস দুধে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো এবং চিনি মেশান। এরপর অল্প আঁচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটান। ফুটানোর সময় সামান্য গোলমরিচ গুঁড়ো দিন। একে ঠান্ডা হতে দিন এবং কুসুম কুসুম গরম হলে পান করুন। উপকারগুলো পেতে প্রতিদিন হলুদ-দুধ পান করতে পারেন।
Post Top Ad
Your Ad Spot
Thursday, January 7, 2016
Post Top Ad
Your Ad Spot
